অনেকেই দেখি মার্গারিটা মামুন বাংলাদেশে থাকলে কি হতো সেসব লিখছেন- জীবনেও অলিম্পিক পর্যন্ত যাইতে পারতো না। রিদমিক জিমন্যাস্ট হওয়ার সুযোগ পাইতোনা। এইসব শিখার পরিবেশ বাংলাদেশে নাই। ‘অশ্লীল’ পোশাক পড়ার জন্য মানুষের কাছ থেকে খোটা শুনতে হইতো। এতদিনে কয়েক বাচ্চার মা হয়ে যাইতো,  সংসার সাম্লাইতে হইতো। বাংলাদেশে থাকলে মানুষের খোটা শুনে এইসব ছাইড়াই দিতো। বাংলাদেশিদের তাই এই মেয়েকে নিয়ে গর্বিত হওয়ার কিচ্ছু নাই।
অনেকেই হয়তো নাসিমা আক্তারের নাম শুনেছেন, অনেকেই শুনেন নাই। দরিদ্র পরিবারের একটি মেয়ে। মাত্র ৭ বছর বয়সে তার পরিবার থেকে তাকে একজন বারবণিতা হওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হয়। তখন সে সেটা হতে না চাইলে তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়। নাসিমা আক্তার স্থানীয় সার্ফিং ক্লাব থেকে সার্ফিং শেখা শুরু করেন। সার্ফিং তার প্যাশন হয়ে দাঁড়ায়। স্থানীয় লোকজন তাকে প্রচুর আজেবাজে গালি দিতো। তাও সে দমে যান নি। কালিফোর্নিয়ার তথ্যচিত্র নির্মাতা হেদার ক্যাসিংগার কক্সবাজারে আসেন। নাসিমার প্যাশন আর সার্ফিং এর দক্ষতা তাকে মুগ্ধ করে। হেদার নাসিমাকে ভিত্তি করে ‘দা মোস্ট ফিয়ারলেস’ নামের একটা ছবি তৈরির উদ্দ্যোগ নেন।
নাসিমা এখন সার্ফিং করেন কি না আমি জানিনা। হয়তো নাসিমা অলিম্পিক পর্যন্ত যেতে পারেন নাই, কিন্তু তাও অনেক দূর গিয়েছেন, সমাজের ট্যাবুকে পাত্তা না দিয়ে। এখন কথা হচ্ছে, আমাদের দেশে হয়তো অনেক কিছু শেখার সুযোগ নাই। তাই অনেকেই বিদেশে চলে যান। বিদেশে থেকে ভাংগা ভাংগা বাংলায় কথা বলে, কঠোর পরিশ্রম করে, যেই দেশে জন্ম পর্যন্ত হয় নাই সেই দেশের প্রতি একটা টান অনুভব করে নিজের জীবনের শ্রেষ্ঠ সাফল্যকে দুইটি দেশের অর্জন বলা দোষের কিছু না।আমাদের উল্টা তাকে সাধুবাদ জানানো উচিত।সো প্লিজ স্টপ।
আর আমাদের দেশে অনেক উদ্যোগী মানুষ আছেন যারা সমাজকে পাত্তা না দিয়ে দেশটাকে অনেক দূরে নিয়ে যাওয়ার স্বপ্নই শুধু দেখছেন না, কাজ করে যাচ্ছেন। এই কিছু মানুষের জন্যই দেশটা একদিন এগিয়ে যাবে।

Advertisements