বইমেলার শেষ দিন। বই কেনা শেষে বাবা আর বোনের সাথে টিএসসিতে এসেছি। এসেই দেখি রাস্তায় বেশ কয়েকজন নারী রংবেরং এর চুড়ি নিয়ে বসেছেন। আমার আবার হাল্কা পাতলা ফটোগ্রাফির শখ আছে। মোবাইল বের করে রঙিন চুড়িগুলোর ছবি তোলা শুরু করলাম। এক বিক্রেতা বললেন, ‘দেখো মা, কোনটা লইবা?’ স্নেহজড়িত কন্ঠ। বেশ কিছুক্ষণ আলাপ হলো তার সাথে। নাম সমিরন।বাড়ি বরিশাল, থাকেন পুরান ঢাকায়। কালেভদ্রে চুড়ি বিক্রি করে উপার্জন করেন।স্বামী রিকশাচালক। কথাবার্তার এক পর্যায়ে দেখি খালিগায়ে এক বাচ্চা ছেলে সমিরনকে বললো, ‘মা, ব্যথা পাইসি।’ সমিরনের কাছে জানা গেল এটা তার ছেলে সানি। প্লে গ্রুপে পড়ে। তার আরেক মেয়ে রিয়ামনি। ১০ বছর বয়স, ক্লাস থ্রিতে পড়ে। সানিকে বললেন,’মা কাজ করতেসি, নানীর কাছে যাও।’ পাশ ফিরে দেখি আরেকজন বয়স্কা নারী চুড়ি নিয়ে বসে আছেন। মা মেয়ে দুইজন মিলে চুড়ি বিক্রি করেন। সমিরন নিজ হাতে আমাকে চুড়ি পড়িয়ে দিলেন। চুড়ি গুলো দেখতে দেখতে মনে হলো, তাদের জীবন কেন এই চুড়ি গুলোর মত রঙিন না?
মার্চ ১, ২০১৬

Advertisements